দৈনন্দিন জিজ্ঞাসাঃ শরয়ী সমাধান, - لا إله إلا الله محمد رسول الله

আপডেট তথ্য

Home Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, February 12, 2018

দৈনন্দিন জিজ্ঞাসাঃ শরয়ী সমাধান,

৮। প্রশ্ন: পুকুরে গোসল করে কাপড় বদলানোর সুযোগ না থাকায় সম্পূর্ণ ভিজা অবস্থায় নামাজ পড়তে হয়েছে, তখন কাপড় থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিলো, আমার নামাজ কি হয়েছে?
প্রশ্ন করেছেনঃ আহমেদ ইউনুস
উত্তরঃ জ্বি নামায হয়েছে, না হওয়ার কিছু পাওয়া যায় নি এখানে৷ কারণ এখানে কাপড়ও পবিত্র, যে পানি দ্বারা কাপড় ভিজেছে, ওই পানিও পবিত্র, তাই নামায হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷
والله تعالي أعلم
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



৯। প্রশ্ন: খালি গায়ে কুরআন তিলাওয়াত করা যায় কি?
প্রশ্ন করেছেনঃ ফাহিম রাহমান
উত্তর: খালি গায়ে তেলাওয়াত করা আদবের পরিপন্থী, তাই মাকরূহ হবে৷ যেকোনো একটা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে রেখে তেলাওয়াত করাই আদবের দাবি৷ সম্পূর্ণ খালি গা না হলেই হলো৷ তবে মুখস্থ থাকলে তাসবীহ হিসেবে পড়া যাবে। তাছাড়া এমনিতেই তো খালি গায়ে থাকা সমিচীন নয়৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১০। প্রশ্ন: জামাতে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যেতে যেতে ১ম রাকাত নামাজ শেষ হয়ে গিয়েছে।২য় রাকাত নামাজ পুরোপুরি পেয়েছি। এখন ইমামের দ্বিতীয় বৈঠক অর্থাৎ আমার প্রথম রাকাত অথবা ইমামের ৪র্থ রাকাত অর্থাৎ আমার ৩য় রাকাত।এই বৈঠক গুলোতে কি আমাকে তাশাহুদ পড়তে হবে?
প্রশ্ন করেছেনঃ রেদয়ান হুসেইন
উত্তর: আপনি মাসবুক হলেও নামাযে ইমাম সাহেবের অধীন হওয়ার কারণে ইমাম সাহেবের তাশাহহুদের সঙ্গে আপনাকেও তাশাহহুদ পড়তে হবে৷
ويجب القعودالأول ويجب قراءةالتشهد فيه في الصحيح. (مراقى الفلاح: ٢٠٢)
"সহীহ মতানুসারে মাসবুকের জন্যে প্রথম বৈঠক ও তাশাহহুদ ওয়াজিব৷" (মারাকিল ফালাহ, পৃ: ২০২, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১০/৪০৯)
তবে অজ্ঞতাবশত বা ভুলে তাশাহহুদ না পড়ে থাকলেও নামায হয়ে যাবে৷ سهوالمؤتم لايوجب السجود على
الإمام… ولا على على المؤتم. (كبيرى ص: ٤٣٧)
"মুক্তাদির ভুলে ইমাম এবং মুক্তাদির উপর সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় না৷" (কাবীরী, পৃ: ৪৩৭)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১১। প্রশ্ন: কবর জিয়ারতের সঠিক নিয়মটা একটু বলবেন প্লিজ ?
উত্তরঃ যিয়ারত মানেই তো দেখা, সাক্ষাত, পরিদর্শন৷ কবরের সামনে গিয়ে মাসনূন সালাম করলেই তো যিয়ারত হয়ে গেলো৷ কবর যিয়ারত ফযীলত এবং সওয়াবের কাজ৷
عن بريدة بن الحصيب قال، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني كنت نهيتكم عن
زيارة القبور فزوروها. (رواه مسلم: ٩٧٧، وفي رواية: فإنها تذكركم الآخرة. رواه أحمد: ١٢٤٠ وابن ماجة: ١٥٦٩)
"হযরত বুরায়দা রা, থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো৷" (মুসলিম: ৯৭৭)
অন্য বর্ণনায় আছে: "কেননা তা আখিরাতকে স্মরণ করায়৷” (মুসনাদে আহমাদ: ১২৪০, ইবনে মাজাহ: ১৫৬৯)
তবে এই নিয়ম ফলো করতে পারেন৷ প্রথমে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে হাদীসে বর্ণিত সালাম করবেন:
السلام عليكم أهل الديار من المؤمنين والمسلمين وإنا إن شاء الله للاحقون أسأل الله لنا ولكم العافية. (رواه مسلم: ٩٧٥) "আসসালামু আলাইকুম আহলাদ-দিয়ার" বা "ইয়া আহলাল ক্বুবুরি মিনাল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত"৷
না পারলে এমনিতেই কবরবাসীকে উদ্দেশ্য করে সালাম করবেন৷ এরপর সূরা ফাতেহা একবার, সূরা এখলাস তিনবার আরো যা পারেন, পড়ে কবরবাসীর জন্যে সওয়াব রেসানী করে আসবেন৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১২। প্রশ্ন: খালি গায়ে কেউ যদি মুখস্থ কুর'আন তিলাওয়াত করে, তবে কি তা মাকরূহ হবে?
প্রশ্ন করেছেনঃ হুসেইন মুহাম্মাদ কাওসার
উত্তর: এটাও আদবের পরিপন্থী৷ দেখুন, কুরআন সাধারণ কোনো পুস্তক নয়, যে কুরআন দীর্ঘ ২৩ বছরে নাযিল হয়েছে৷ যখন নাযিল হতো, হুযুর সা, গলদঘর্ম হয়ে যেতেন৷ আসমান-যমীন, পাহাড়-পর্বত কেউ গ্রহণ করার সাহস করে নি, এত জবরদস্ত আযীমুশশান কিতাব৷ খালি গায়ে তেলাওয়াত করা মোটেও সমিচীন হবে না৷ তাছাড়া এমনিতেই তো খালি গায়ে থাকা সমিচীন নয়৷ তবে মুখস্থ থাকলে তাসবীহ হিসেবে পড়া যাবে।
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১৩। প্রশ্ন: ফজরের যদি জামাত শুরু হয়ে যায়, তখন সুন্নত নামাজ কতক্ষন পর্যন্ত পড়া যাবে?
প্রশ্ন করেছেনঃ তাওহিদুল ইসলাম উদয়
উত্তর: সুন্নাত পড়ে শেষ রাকআত পর্যন্ত কোনো কোনো মতে শেষ বৈঠক পর্যন্ত ইমাম সাহেবের সঙ্গে জামাআতে শামিল হওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সুন্নাত পড়া যাবে৷ (ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১১/২৫৫)
عن ابن عمر أنه جاء والإمام يصلى الصبح ولم يكن صلى الركعتين قبل صلاةالصبح فصلاهما فى حجرة حفصة ثم أنه صلى مع الإمام. (طحاوي شريف: ١/٢٢٠)
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার রা, থেকে বর্ণিত যে, তিনি মসজিদে এলেন, তখন ইমাম সাহেব ফজরের নামায শুরু করে দিয়েছেন৷ কিন্তু ইবনে উমার তখনও ফজরের পূর্বের দুই রাকআত সুন্নাত পড়েন নি৷ এরপর তিনি তাঁর বোন উম্মুল মু'মিনীন হযরত হাফসা রা,-এর কক্ষে সুন্নাত পড়ে ইমাম সাহেবের সঙ্গে জামাআতে শরীক হলেন৷" (তাহাবী: ১/২২০) তাহলে বুঝা গেলো, জামাআত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নাত আগে পড়ে নেয়া উচিত৷ কেননা ফরয শেষ হওয়ার পর আর অন্য নামায মাকরূহ৷ তবে যদি দেখা যায়, ফরয নামায সম্পূর্ণ ছুটে যাবে, তাহলে ফরযে শামিল হয়ে যেতে হবে৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১৪। প্রশ্ন: কুরআন ছুঁতে কিংবা পড়তে অযু করা কি বাধ্যতামূলক? অন্যথায় কি গোনাহ হবে?
প্রশ্ন করেছেনঃ রাকিদ হাসান
উত্তর: কুরআন তেলাওয়াত করতে ওযু করা জরুরী নয়, তবে স্পর্শ করতে অবশ্যই ওযু করা জরুরী৷ হযরত ইবনে উমার রা, থেকে নির্ভরযোগ্য সনদে রেওয়ায়াত:
عن ابن عمر ان النبي صلي الله عليه وسلم قال لا يمس القرآن إلاطاهر. (رواه الدار قطني فى سننه: ١/١٢١)
"রাসূল সা, বলেছেন কুরআন কেবল পবিত্ররাই স্পর্শ করবে৷" (দারাকুতনী ১/১২১, সনদ সহীহ)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১৫৷ প্রশ্ন: আসসালামু 'আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমাদের মাঝে একটি প্রথা প্রচলিত আছে। যেমন, সম্মিলিত ভাবে কুরআন খতম দেয়া। ৭/৮ জন মিলে কুরআনের পারা গুলোকে ভাগ করে একেকজন ২/৩ পারা করে পড়ে সবাই মিলে কুরআন খতম করা হয় এবং খতম শেষে দু'আ করা হয়। এ ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি?জাযাকাল্লাহু খাইর।
প্রশ্ন করেছেনঃ সামী মিয়াদাদ চৌধুরী
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ৷
দেখুন, খতমে কুরআন তো সওয়াবের এবং ফযীলতের কাজ৷ কিন্তু এটাকে পেশা বানিয়ে নেয়া কোনোভাবেই জায়েয নয়৷
সাধারণত খতমে কুরআন দুই উদ্দেশ্যে করানো হয়ে থাকে৷
১. খতমে কুরআনে যদি দুনিয়াবী উদ্দেশ্য না থাকে, বরং কেবল আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির নিমিত্তে বা মৃত ব্যক্তির জন্যে সওয়াব রেসানীর উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তখন এর বিনিময় এবং টাকা-পয়সার লেনদেন জায়েয নয়৷
২. আর খতমে কুরআন যদি দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, যেমন- খতমে কুরআন করে কোনো রোগ থেকে মুক্তির জন্যে দুআ করানো হয় বা ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতির জন্যে খতমে কুরআন করে টাকা-পয়সা গ্রহণ বৈধ৷
(সহীহ বুখারী ২/৮৫২, শরহে নববী আলা সহীহ মুসলিম ২২৪)
এক প্রশ্নের জবাব মাসিক আল-কাউসারে এরকম দেয়া হয়েছে-
"খতমে কুরআন, খতমে ইউনুস বা অন্য কোনো দুআ-দরূদের খতম যদি কেবলমাত্র দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে করা হয় (যেমন, রোগমুক্তি, বিপদ-আপদ থেকে হেফাযত, ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি ইত্যাদি) তবে সেক্ষেত্রে বিনিময় দেওয়া-নেওয়া জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রেও বিনিময়ে কোনো কিছু না নেওয়াই শ্রেয়। আর কারো জন্য এভাবে খতম পড়াকে পেশা হিসাবে অবলম্বন করা কিছুতেই সমীচীন নয়।" (মাসিক আল-কাউসার, ফেব্রুয়ারি: ২০১৩)
পুনারায় জিজ্ঞাসা: জাযাকাল্লাহু খাইর ভাই। আমি আমার ব্যাপারটা আরেকটু খোলাসা করি। আমার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই পারিবারিক ভাবেই কুরআন খতম করা হয়। ঘনিষ্ট কোন আত্মীয় অসুস্হ্য হলে বা বিপদ-আপদ দেখা দিলে পরিবারের ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরা সবাই মিলে কুরআন খতম দেয়া হয়। আমার উপরও ২/৩ পারা পড়ার দায়িত্ব থাকে সবসময়। কম সময়ের মধ্যে একা একজন পুরো কুরআন পড়ে খতম করে সম্ভব না বলেই হয়ত এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এভাবে কুরআন খতমে ইসলামের কোন বাঁধা নেই তো?
উত্তর: বাধা হবে কেনো? যেহেতু তিলাওয়াতে কুরআন অনেক বড় ফযীলতের কাজ৷ আর এটা তো অনেক ফযীলত এবং সওয়াবের ইবাদত৷ পাশাপাশি দুআ কবুলিয়তেরও কারণ৷ তাছাড়া সালাফ থেকেও খতমে কুরআনের আমল প্রমাণিত৷
عن إبراهيم النخعي قال: كان الأسود يختم القرآن في رمضان في كل ليلتين.
(السير: ٤/٥١)
"তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ, বলেন: হযরত আসওয়াদ রা, রামাযান মাসে প্রত্যেক দুই রাতে কুরআনের খতম করতেন৷" (আস-সিয়ার: ৪/৫১)
وكان قتادة يختم القرآن في سبع، فإذا جاء رمضان ختم في كل ثلاث، فإذا جاء العشر ختم في كل ليلة.
(السير: ٥/٢٧٦).
"হযরত কাতাদাহ রাহ, এক সপ্তাহে কুরআন খতম করতেন৷ যখন রামাযান আসত, তখন তিন দিনে খতম করতেন৷ আর যখন শেষ দশক আসত, কখন প্রতিরাতে খতম করতেন৷" (আস-সিয়ার: ৫/২৭৬)
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১৬) প্রশ্নঃ কোরআন খতম করে কি মৃত ব্যক্তি নিকট সাওয়াব পোঁছানো যায়, এটা কতটুকু সঠিক, আমরা জানি যে মানুষ মারা যাবার পর তিন আমল ছাড়া বাঁকি সব বন্ধ হয়ে যায় ?
প্রশ্ন করেছেনঃ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ
উত্তরঃ জাযাকাল্লাহ ভাই বিষয়টি অবতারণার জন্যে৷ আসলেই প্রশ্নটির সমাধান হওয়া দরকার৷
দেখুন, হাদীসে এসেছে:
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلا مِنْ ثَلاثَةٍ: إِلا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ.
(رواه مسلم: ١٦٣١)
অর্থাৎ মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকারের আমল ব্যতীত: ১, সাদাকায়ে জারিয়া অথবা হিতকর ইলম অর্থাৎ ইলমে দ্বীন অথবা নেক সন্তান, যে সন্তান তার জন্যে দুআ করবে৷ (সহীহ মুসলিম: ১৬৩১)
দেখুন, এখানে মৃত ব্যক্তির আমল বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, জীবিত ব্যক্তির আমল ও সওয়াব পৌঁছানো বন্ধ হওয়ার কথা তো বলা হয় নি৷ তাই কুরআন তেলাওয়াত করে ইসালে সওয়াব করলে মৃতদের কাছে সেই সওয়াব পৌঁছে৷ মৃতদের রূহে সওয়াব পাঠানো যদি বন্ধ হয়ে যেতো, তাহলে তো কবর যিয়ারত, মৃতদের পক্ষ থেকে কুরবানী, দুআ ইত্যাদি করার কথা হাদীসে পাওয়া যেত না৷ আবু দাউদ শরীফের এক হাদীসে এসেছে, মৃত ব্যক্তিরা কবর জগতে এমন অসহায় অবস্থায় থাকেন, যেমন অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকা মানুষের মতো৷ যখন তাদের জন্য সওয়াব পৌঁছানো হয়, তখন তারা শান্তি পান৷
ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আহমদ, শাফেঈ মাযহাবের কোনো কোনো আলিম, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুমুল্লাহ সহ অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মত হলো, খতমে কুরআন, তেলাওয়াতে কুরআন তথা শারীরীক ইবাদতের সওয়াব মৃত ব্যক্তির কাছে গিয়ে পৌঁছে৷
جاء في رد المحتار: من دخل المقابر فقرأ سورة (يس) خفف الله عنهم يومئذ، وكان له بعدد من فيها حسنات.
(ردالمحتار نعمانية: ٢/٢٤٣)
"যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করবে, এইদিন আল্লাহ তাআলা কবরবাসীর শাস্তি হ্রাস করে দেন৷ এবং কবরস্থানের মুর্দার সংখ্যা পরিমাণ সওয়াব যিয়ারতকারীর জন্যে দেয়া হয়৷" (রদ্দুল মুহতার: ২/২৪৩)
যারা ইসালে সওয়াবের বিরোধিতা করেন, তারা তাদের মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের উপর সত্যি যুলুম করছেন, তাদের অসহায় কবরবাসী আত্মীয়-স্বজন তাদের হাতের পানে চেয়ে থাকেন, কিন্তু তারা তো ইসালে সওয়াবেই বিশ্বাস করেন না৷ হতভাগা সেইসব মা-বাপ, যারা নিজেদের সন্তানকে কবর জগতে শান্তির আশায় ইলমে দ্বীন শেখালেও, তাদের সন্তান তো ইসালে সওয়াবের উপর বিশ্বাসই রাখে না, তাদের জন্যে সওয়াব পাঠাবে কী করে? তাদের ভুলে আছে শরীয়তের সঠিক বুঝ না থাকার কারণে৷ আল্লাহ আমাদেরকে শরীয়তের সহীহ ইলম দান করুন৷ আমীন৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



১৭) প্রশ্ন: প্রত্যেক মুমিনের উচিত সর্বদা তাওবা করা এবং বেশী বেশী নেক আমল করা ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য তলব করা। কারণ গুনাহ্‌ই হচ্ছে, সবচেয়ে বড় সমস্যা, সবচেয়ে বড় মুসিবত। বান্দা যখন তাওবা করে, আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন এবং তাকে নিশ্চিত সফলতা দান করেন।
তিনি বলেন : ‘‘মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’’ [সূরা আন্‌-নূর: ৩১]
এখন আমার কথা হচ্ছে আল্লাহর কাছে তাওবা করার উত্তম উপায় কোনটা...........? জানালে উপকৃত হব।
প্রশ্ন করেছেনঃ আহমেদ রুবেল
উত্তর: গোনাহ হতে মুক্তি লাভের আশায় কৃত পাপগুলো স্মরণ করে আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠচিত্তে ক্ষমা প্রার্থনা করবে (সূরা আত-তাহরীম ৮)।
রাসূল (সা,) বলেন, ‘বান্দা কোন পাপ করে ফেললে যদি সুন্দরভাবে ওযূ করে দু’রাক‘আত নফল নামায আদায় করে আল্লাহর নিকট বিনীতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন’ (আবূদাঊদ ১৫২৩)। তবে তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে-
(১) একমাত্র আল্লাহ্কে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই তওবা করতে হবে।
(২) কৃত গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হ’তে হবে।
(৩) পুনরায় সে গোনাহে জড়িত না হওয়ার প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
উল্লেখ্য, যদি পাপটি বান্দার সাথে যুক্ত থাকে, লেনদেন থাকে, তাহলে উপরের তিনটি শর্ত পূরণের সাথে চতুর্থ শর্ত হিসাবে তাকে বান্দার ঋণ পরিশোধ করতে হবে৷ তার অস্বাক্ষাতে গীবত করে থাকলে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে ও তাকে খুশী করতে হবে। নইলে তার তওবা শুদ্ধ হবে না’ (রিয়াযুছ ছালেহীন ইমাম নাওয়াওয়ী রাহ, ‘তওবা’ অনুচ্ছেদ)।
তওবার জন্য বেশী বেশী পাঠ করতে হবে ‘আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ুম ওয়া আতূবু ইলাইহে’ (আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। আমি অনুতপ্ত হৃদয়ে তাঁর দিকে ফিরে যাচ্ছি বা তওবা করছি) (তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৩৫৩)।
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)





2 comments:

  1. কোরআন কী ভাগ করে খতম দেওয়াযবে কী?

    ReplyDelete
  2. কোরআন কী ভাগ করে খতম দেওয়াযবে কী?

    ReplyDelete

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages