দৈনন্দিন জিজ্ঞাসাঃ শরয়ী সমাধান - لا إله إلا الله محمد رسول الله

আপডেট তথ্য

Home Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, February 12, 2018

দৈনন্দিন জিজ্ঞাসাঃ শরয়ী সমাধান

38 প্রশ্ন: জামায়াতে সালাত পড়ার সময় প্রায়ই এমন হয়। দ্বিতীয় রাক'আতে তাশা'হুদ অর্ধেক পড়া শেষ করার আগেই দেখা যায় ইমাম সাহেব তাকবীর দিয়ে বৈঠক থেকে দাড়িয়ে গিয়েছেন অথবা চতুর্থ রাক'আতে দুরূদ শরীফ পড়া শেষ করার আগেই সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন। এ সময়ে কি করনীয়? ইমাম সাহেবের সাথেই বৈঠক থেকে দাড়িয়ে পড়া অথবা সালাম ফিরিয়ে নেয়া? নাকি, নিজের পড়া শেষ করে দাড়ানো বা সালাম ফেরানো।
প্রশ্ন করেছেনঃ সামি মিয়াদাদ চৌধুরী
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ৷ ফিকহের কিতাবগুলোতে বলা হয়েছে, ইমাম সাহেব যদি তৃতীয় রাকআতে উঠে যান আর এদিকে মুক্তাদির তাশাহহুদ পড়া শেষ না হয়, তখন মুক্তাদী তাশাহহুদ পড়া শেষ করেই দাঁড়াবেন৷ আর শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ পাঠ যদি বাকি থেকে যায়, তখন মুক্তাদী ইমাম সাহেবের অনুসরণ করে সালাম ফিরিয়ে নেবেন৷ দেখুন, রদ্দুল মুহতারে বলা হয়েছে-
وفي رد المحتار: وَقَدْ صَرَّحَ فِي الظَّهِيرِيَّةِ بِأَنَّ الْمُقْتَدِيَ يُتِمُّ التَّشَهُّدَ إذَا قَامَ الْإِمَامُ إلَى الثَّالِثَةِ. (٢/١٠ باب الوتر والنوافل)
"যাহীরিয়্যাহ নামক ফিকহের কিতাবে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ইমাম সাহেব যদি তৃতীয় রাকআতের জন্যে উঠে দাঁড়িয়েও যান, তবুও মুক্তাদী তাশাহহুদ পুরা করবে৷" (রদ্দুল মুহতার: ২/১০)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



39 প্রশ্ন: একজন পুরুষের উপর সর্বাধিক হক তার মায়ের, আর একজন নারীর উপর সর্বাধিক হক তার স্বামীর।' ইসলামী শরিয়তে উক্ত কথার কি কোন ভিত্তি রয়েছে? নাকি এটা লোকমুখে বানানো কোন কথা?
প্রশ্ন করেছেনঃ সামী মিয়াদাদ চৌধুরী
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম৷
কথাটি সম্পূর্ণ সঠিক এবং এর সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে৷ এটাই শরীয়তের বিধান৷ আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের সঙ্গে মা-বাবার খেদমতকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন। এর দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহ তাআলার হকের পরেই মাতা-পিতার হক সন্তানের উপর বেশি৷ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا. (سورةالإسراء-٢٣)
"তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর।" [সূরা আল ইসরা: ২৩]
দেখুন, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদাহ করার অনুমতি ইসলামী শরীয়তে নেই৷ যদি থাকত, তবে স্ত্রীদেরকে হুকুম করা হতো তাদের স্বামীদের সিজদাহ করার জন্যে৷ এর দ্বারাও বুঝা যায়, একজন বিবাহিতা মহিলার উপর তার স্বামীর হক-ই সবচে বেশি৷ হাদীসে এসেছে-
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبيِّ ﷺ، قَالَ: لَوْ كُنْتُ آمِراً أحَداً أنْ يَسْجُدَ لأحَدٍ لأمَرْتُ المَرأةَ أنْ تَسْجُدَ لزَوجِهَا. (رواه الترمذي: ١١٥٩، وَقالَ: حديث حسن صحيح و ابن ماجة: ١٨٥٣)
"আবূ হুরায়রা রা, থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।’’ (তিরমিযী: ১১৫৯, ইবনে মাজাহ: ১৮৫৩)
তাছাড়া এ বিষয়ক পরিষ্কার রেওয়ায়াতও রয়েছে-
عن عائشة رضي الله عنها قالت: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الناس أعظم حقا على المرأة؟ قال: زوجها. قلت: فأي الناس أعظم حقا على الرجل؟ قال: أمه. (رواه البزار: ١٤٦٢ والحاكم في المستدرك: ٤/١٥٠)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘নারীর উপর সবচেয়ে বেশি হক কার?’ তিনি বললেন, ‘স্বামীর।’ আমি আবার প্রশ্ন করলাম, ‘পুরুষের উপর সবচেয়ে বেশি হক কার?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘মায়ের।’ (মুসনাদে বাযযার: ১৪৬২, মুসতাদরাকে হাকিম: ৪/১৫০)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



40 প্রশ্ন: কোরবানির গরুতে দেখা যায় গরুতে ৭ নাম ও ছাগলে ১ নাম দেয়া হয়, এটি কি সঠিক?
প্রশ্ন করেছেনঃ অমি কাজী
উত্তরঃ কুরবানীর গরুতে সর্বোচ্চ সাত অংশ করে দেয়ার কথা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত৷
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ: نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ، وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ. (رواه مسلم- ١٣١٨) 
হযরত জাবির রা. বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রাসূল সা. এর সাথে হুদায়বিয়ার বছর কুরবানী করেছিলাম। তখন আমরা একটি গরু ও উটে সাতজন করে শরীক হয়েছিলাম। (সহীহ মুসলিম, হা/১৩১৮)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ، وَالْجَزُورُ- أي: البعير- عَنْ سَبْعَةٍ. (روى أبو داود- ٢٨٠٨)
অন্য রেওয়ায়াতে "জাবির রা, থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা, ইরশাদ করেন, গরু (কুরবানী) সাতজনের পক্ষ থেকে এবং উট (কুরবানী) সাতজনের পক্ষ থেকে৷" (আবু দাউদ- ২৮০৮)
এই সমস্ত হাদীসের উপর ভিত্তি করে ফুকাহায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু কয়েকজন মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না। আর উট, গরু, মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরীক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। (কাযীখান ৩/৩৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭-২০৮)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



৪১ প্রশ্ন: আমার স্ত্রী বেনামাজী, আমি না বললে নামাজ় পড়ে না, আমার সাথে জামাতে নামাজ় পড়ে, এখেত্রে আমার জন্য কী মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ় পড়া কী উচিত না অনুচিত?
প্রশ্ন করেছেনঃ অমি কাজী
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম৷ আপনি মসজিদে গিয়েই জামাআতে নামায পড়বেন৷ কেননা পুরুষের জন্যে একান্ত ওজর ব্যতীত জামাআত ত্যাগ করা জায়েয নয়৷ আপনার স্ত্রীর নামাযের প্রতি উদাসীনতা আপনার জন্যে ওজর নয়৷ হাদীসে এসেছে-
روى ابن عباس- رضي الله عنهما- أن النبي- صلى الله عليه وسلم- قال: من سمع النداء، فلم يمنعه من اتباعه عذر، قالوا: وما العذر يا رسول الله؟ قال: خوف أو مرض، لم تقبل منه الصلاة التي صلى. (رواه أبو داود برقم- ٤٦٤)
"হযরত ইবনে আব্বাস রা, থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা, ইরশাদ করেন, নামাযের আহবান (আযান) শুনবে অথচ নামাযের জন্যে (মসজিদে) আসতে তার কোনো ওযর থাকবে না, (এরপরও যদি জামাআতে না এসে একা একা পড়ে) তাহলে তার নামায কবুল হবে না৷ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওযর কী ধরণের? রাসূলুল্লাহ সা, বললেন 'ভয়' অথবা 'অসুস্থতা'৷" (আবু দাঊদ- ৪৬৪)
তাই আপনার স্ত্রীকে ঘরে নামায আদায় করতে বলবেন৷ তাকে নামাযের প্রতি যত্নবান হওয়ার লক্ষে আখেরাতের স্মরণ হয়, আল্লাহর আজাব-গজবের কথা স্মরণ হয়, নামায না পড়ার কঠিন শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে, এমন বই কিনে পড়তে দিন৷ সুযোগমতো মাস্তুরাতের তাবলীগে নিয়ে যান৷ এবং হেদায়াতের দুআ করতে থাকুন৷
والله تعالي أعلم
উত্তর প্রদানেঃ মুফতি জিয়া রহমান।



৪২ প্রশ্ন: আমি জানতে চাই শুক্রবারে এবং রামাযানের দিন মৃত্যুতে কোন সওয়াব আছে কি? আমি শুনেছি কেউ যদি শুক্রবারে মারা যায় তাহলে তাঁর কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়? এর কোন দলিল আছে?
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম৷
জুমআর দিন ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তা'আলা ওই ব্যক্তিকে কবরের আযাব থেকে হেফাজত করবেন৷ এরকম হাদীস বিভিন্ন হাদীসের কিতাবে এসেছে৷
عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: ما من مسلم يموت يوم الجمعة إلا وقاه الله فتنة القبر.
(رواه الترمذي: (١٠٧٤) وأحمد (٢/١٦٩) (٦٥٨٢). والحديث صحيح بمجموع طرقه أو حسن.
"আবদুল্লাহ বিন আমর রা, হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে কোন মুসলিম জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাতে মারা গেল আল্লাহ তা‘আলা তাকে অবশ্যই কবরের আযাব থেকে রেহাই দেবেন৷" (তিরমিযী: ১০৭৪, আহমাদ: ৬৫৮২)
সব সূত্র মিলিয়ে হাদীসটি সহীহ অথবা হাসান থেকে কম নয়৷ তাই হাদীস দলীলযোগ্য৷
আশা করা যায় শুক্রবারের বরকতে আল্লাহ তাআলা তার কবরের আযাব মাফ করে দিতে পারেন৷
রামাযান মাস হলো নেক আমলের মওসুম, আর নেক আমল হলো জান্নাত লাভের উপায়৷ আল্লাহ তাআলা বলেন:
ادْخُلُواْ الْجَنَّةَ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ.
(سورة النحل: ٣٢)
"তোমরা যে আমল করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ করো৷" (সূরা আন-নাহল: ৩২)
যেহেতু রামাযান মাসে জান্নাতের দরজা খোলা থাকে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে, তাই রোজাবস্থায় মারা গেলে জান্নাতের আশা করা যায়৷
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাআইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إذا جاء رمضان فتحت أبواب الجنة وغلقت ابواب جهنم وصفدت الشياطين.
(رواه البخارى: ١٨٩٨ و مسلم: ١٠٧٩)
যখন মাহে রমাযানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়। আর শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (সহীহ বুখারী: ১৮৯৮, সহীহ মুসলিম: ১০৭৯)
কেননা রোযা এমন এক আমল, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে রাখলে রাসূল সা, তার জন্যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷
عن حذيفة رضي الله عنه قال: اسندت النبي صلى الله عليه وسلم إلى صدري، فقال: من قال: لا إله إلا الله ختم له بها دخل الجنة، ومن صام يوما ابتغاء وجه الله ختم له به، دخل الجنة، ومن تصدق بصدقة ختم له بها، دخل الجنة.
(رواه احمد، وذكره الهيثمى فى المجمع (11935) وقال: رواه احمد ورجاله رجال الصحيح غير عثمان بن مسلم البتى وهو ثقة.
"হযরত হুযায়ফা রা. বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বুকের সাথে মিলিয়ে নিলাম, তারপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় একদিন রোযা রাখবে, পরে তার মৃত্যু হয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো দান-সদকা করে তারপর তার মৃত্যু হয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (মুসনাদে আহমদ: ২৩৩২৪; মুসনাদে বাযযার: ২৮৫৪)
রোযাদারদের জান্নাতের সুসংবাদ বিষয়ক এরকম অনেক হাদীস রয়েছে, তাই আশা করা যায় রোযাবস্থায় মারা গেলে আল্লাহ তাআলা তার কবরের আযাব মাফ করবেন, তাকে জান্নাত দিয়ে পুরষ্কৃত করবেন৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



43 প্রশ্ন: শরীরের বুকে পিটে যে চুল রয়েছে এইগুলা কি ফেলে দেওয়া জায়েয আছে??
উত্তর: ওয়ালাইকুমুস সালাম৷
এই সমস্ত পশমের ব্যাপারে শরীয়তের কোনো নির্দেশনা না থাকায় এবং হাদীসে আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মাঝে পরিবর্তন আনার কঠিন নিষেধাজ্ঞার কারণে মাকরূহ হবে৷
বুখারী ও মুসলিমের হাদীস ইবনে মাসউদ রা, থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা, ইরশাদ করেন:
وعن عَبْدِ اللَّهِ بن مسعود رضي الله عنه قَالَ: لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُوتَشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ، الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ الله.
(رواه البخاري: ٤٨٨٦ ومسلم: ٢١٢٥)
"যারা (নিজের শরীরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষে) উলকি আঁকে, উলকি আঁকার কাজ করে৷ শরীর ছিদ্র করে, ছিদ্র করার কাজ করে৷ ভ্রু ছাঁচে এবং ভ্রু ছাঁচার কাজ করে৷ আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মাঝে পরিবর্তন আনে, তাদের উপর আল্লাহ তাআলা লানত করেছেন৷" (বুখারী: ৪৮৮৬, মুসলিম: ২১২৫)
এটাও আল্লাহ তাআলার সৃষ্টির মধ্যে বিকৃতি সাধনের অন্তর্ভুক্ত৷
عن أبى حنيفة رحمه الله: يكره أن يحلق قفاه إلا عند الحجامة كذا فى الينابيع. (عالمكيرية: ٥/٣٥٧)
"ইমাম আবু হানীফা রাহ, থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, শিঙ্গা লাগানো ছাড়া ঘাড়ের নিচের অংশের পশম মুণ্ডানো মাকরূহ৷" (ফাতাওয়া আলমগীরী: ৫/৩৫৭)
এই ব্যাখ্যা থেকে পরিষ্কার বুঝা গেলো, শরীরের স্বাভাবিক অঙ্গে বিকৃতি সাধন করা, এতে পশম উঠিয়ে হোক বা অন্য কোনো মাধ্যমে হোক; মাকরূহ৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



44. প্রশ্ন: কেউ যদি যাকাতের পরিমান ভুল হিসাব করে আদায় করে ফেলে এবং আদায়কৃত যাকাতের পরিমান যদি আসল যাকাত থেকে বেশী হয়, তবে কি তা ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে?
ধরা যাক, গত ১ বছরের হিসাবে আমার যাকাতের পরিমান ৩০,০০০ টাকা। কিন্তু ভুল হিসাবের কারণে আমি ৩৫,০০০ টাকা যাকাত আদায় করেছি। নির্ধারিত পরিমানের অধিক আদায় করাতে কি আমার ভুল হয়েছে? যদি ভুল না হয়, তবে কি পরবর্তী বছর আমি নির্দিষ্ট পরিমানের ৫০০০ টাকা কম আদায় করতে পারবো?
উত্তর: যেহেতু কম দেয়া হয় নি, বেশি দেয়া হয়েছে, তাই হিসাব ভুল হলেও যাকাত আদায় হয়ে গেছে৷
এখন প্রশ্ন রইল অতিরিক্ত ৫ হাজারের৷ এই অতিরিক্ত টাকাগুলো পরের বছরের যাকাতে যোগ হবে৷
ولو مر بأصحاب الصدقات فأخذوا منه اكثر مما عليه ظنا منهم أن ذلك عليه لما أن ماله أكثر يحتسب الزيادة للسنة الثانية.
(المحيط البرهانى: ٣/٢٢٦)
"যদি যাকাত উসুলকারী যদি যাকাত দাতার কাছ থেকে (শরীয়ত) নির্ধারিত পরিমাণের বেশি উসুল করে নেয়, এই ধারণা করে যে, মনে হয় অতিরিক্ত এইটুকুও তার উপর যাকাত আসে, তাহলে অতিরিক্ত যা উসুল করা হয়েছিল, তা পরের বছরের যাকাতে গণ্য হবে৷" (আল-মুহীত: ৩/২২৬)
সেই হিসেবে এই ৫ হাজার টাকা পরের বছরের যাকাতের হিসাবে যোগ হবে৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



45 প্রশ্ন: অযু করার পরে যদি খেয়াল হয় হাতের কোন একাটা জায়গায় পানি পৌছানোর কথা, তবে তা পৌছায়নি, পরে কি শুধু ঐ স্থানে আলাদা ভাবে পানি দিলে হয়ে যাবে? নাকি আবার নতুন করে সম্পুর্ন অযু করতে হবে?
উত্তর: হানাফী মাযহাবসহ অধিকাংশ ইমামগণের মতে ওযু করার সময় এক অঙ্গ শুকানোর আগে আরেক অঙ্গ ধৌত করা সুন্নাত৷ (আহকামুল কুরআন: ২/৫০১, আল-বাহরুর রায়েক: ১/২৭, বাদায়ে': ১/২২, শামী: ১/১২২)
তাই ভুলক্রমে যদি কোনো জায়গায় পানি না পৌঁছে, শুধু ওই স্থানে পানি প্রবাহিত করলেই ওযু হয়ে যাবে৷ হাদীসে এসেছে-
وعن علي قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: إني اغتسلت من الجنابة وصليت الفجر ثم أصبحت فرأيت قدر موضع الظفر لم يصبه الماء، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لو كنت مسحت عليه بيدك أجزأك.
(رواه ابن ماجه: ٦٦٤).
"হযরত আলী রা, থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল সা, এর কাছে এসে বলল, আমি ফরজ গোসল করে ফজরের সালাত আদায় করেছি, কিন্তু পরে দেখি নখ পরিমাণ কিছু জায়গায় পানি পৌঁছে নি৷ রাসূল সা, বললেন, তুমি যদি শুধু ওই জায়গায় পানি পৌঁছে দিতে, তাহলে তোমার জন্যে যথেষ্ট হতো৷" (ইবনে মাজাহ: ৬৬৪)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



46 প্রশ্ন: আতর কি শুধু জুম'আর দিনে দেওয়া সুন্নাহ, নাকি প্রতিদিন দিলে সুন্নাহ হবে? আতর লাগানোর কোন সুন্নাতি পদ্ধতি থাকলে একটু বলে দিন হুজুর।
উত্তর: শুধু শুক্রবার নয়, এমনিতেই আতর ব্যবহার করা সুন্নাত৷ কেননা সুগন্ধি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় বস্তু ছিলো৷
عن أنس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حبب إلي من الدنيا النساء والطيب.
(رواه النسائى: ٣٩٣٩)
"হযরত আনাস রা, থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা, ইরশাদ করেন, দুনিয়ার দু'টি জিনিস আমার সবচে প্রিয়: নারী ও সুগন্ধি৷" (নাসাঈ: ৩৯৩৯)
আবার প্রশ্ন: জাযাকাল্লাহ খাইর হুজুর, আতর লাগানোর কোন সন্নতি পদ্ধতি আছে কি? অনেকে বলেন ডান হাতের তালুতে লাগিয়ে ঐ হাতে দিয়ে কাপড়ের অন্য জায়গায় লাগাতে হয়?
উত্তর: যেহেতু প্রত্যেক ভালো কাজে ডানহাত ব্যবহার করা সুন্নাত, তাই এক্ষেত্রেও ডানহাত ব্যবহার করবেন৷ এটাই নবীজীর তরীকা এবং সুন্নাত৷ হাদীসে এসেছে:
عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله يحب التيامن في تنعله وترجله وطهوره وفي شأنه كله. متفق عليه.
(رواه البخارى: ١٦٨ ومسلم: ٢٦٨)
"উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত কাজে (যেমন) জুতা পরা, মাথা আঁচড়ানো, ওযু করা এবং (প্রভৃতি সমস্ত ভাল) কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।" (বুখারী: ১৬৮, মুসলিম: ২৬৮)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



47 প্রশ্ন: লজ্জা স্থান এ ওযু অবস্তায় হাত দিলে কি ওযু নস্ট হয়ে যাবে?
উত্তর: লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযু ভঙ্গ হয় না৷ সহীহ রেওয়ায়েতের ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কেরামের এটাই সিদ্ধান্ত৷
عن طلق بن على قال: الرجل يمس ذكره فى الصلاة أعليه الوضوء؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم لا إنماهو بضعة منك. (أبود داود: ١٨٢، الترمذي: ٨٥، إعلاءالسنن:١/١٩٠)
"হযরত ত্বালক ইবনে আলী রা, হুজুর সা,কে জিজ্ঞেস করলেন, কোনো ব্যক্তি যদি নামাযে তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করে, তাহলে কী সে আবার ওযু করবে? রাসূল সা, বললেন: না, এটা তো তোমার শরীরের (অন্যান্য অঙ্গের মতো) একটি অঙ্গ৷" (তিরমিযী: ৮৫, আবু দাউদ: ১৮২, এলাউস সুনান: ১/১৯০)
والله تعالى أعلم.
উত্তর প্রদানেঃ হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)




No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages