দৈনন্দিন জিজ্ঞাসাঃ শরয়ী সমাধান - لا إله إلا الله محمد رسول الله

আপডেট তথ্য

Home Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, February 12, 2018

দৈনন্দিন জিজ্ঞাসাঃ শরয়ী সমাধান

18 প্রশ্নঃ নফল রুজা কি একাধারে রাখা যাবে? এই মাসে যে ৬টা রুজা রাখতে পারিনাই তা কি এখন রাখতে পারব?
প্রশ্ন করেছেনঃ হাসান কাজী
উত্তর: রোযা রাখার নিষিদ্ধ দিনসমূহ ছাড়া বাকি অন্যান্য দিনগুলোতে সারাবছর লাগাতার রোযা রাখার ব্যাপারে কিতাবী আলোচনায় কিছুটা মতভিন্নতা থাকলেও সহীহ কথা হচ্ছে, লাগাতার রোযা রাখলে যদি দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়, তাহলে জায়েয হবে এবং সওয়াব পাওয়া যাবে৷
ويكره صوم الوصال وهو أن يصوم السنة كلها ولايفطر فى الأيام المنهى عنها. (فتاوى عالمكيرية ١/٢٠١)
"লাগাতার রোযা রাখা মাকরূহ৷ আর এটা হচ্ছে সারাবছর লাগাতার রোযা রাখা৷ রোযা রাখার নিষিদ্ধ দিনেও রোযা না ভাঙা৷" (ফাতাওয়া আলমগীরী ১/২০১, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৫/২২৮) এখনও তো শাওয়াল ছয় দিনের বেশি রয়েছে৷ লাগাতার রেখে দিন৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



19 প্রশ্ন: কেউ যদি বিছানার উপর বসা থাকে তাহলে ঐ কক্ষে মাটিতে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা কি জায়েজ হবে যেখানে বিছানায় বসা ব্যক্তির পায়ের উচ্চতা কুরআনের উচ্চতার চেয়ে বেশী?
প্রশ্ন করেছেনঃ তাহসিন আব্দুর রাহমান রাবাব
উত্তর: কেউ বিছানার উপর বসে থাকবে আর এই কামরায়ই নিচে বসে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত হবে এটা কুরআন মজীদের আদব ও এহতেরামের খেলাফ৷ এরকম কাজ থেকে বেঁচে থাকা জরুরী৷ (কেফায়াতুল মুফতি- কিতাবুল আকাইদ পৃ: ১২৬, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৭/১৪১)
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



20 প্রশ্ন: ওযু ছাড়া মোবাইলে কুর'আন এর আরবী টেক্সট পড়া যাবে???
উত্তর: যেহেতু পবিত্র কুরআন পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা জায়েয নয়৷
عن ابن عمر ان النبي صلي الله عليه وسلم قال لا يمس القرآن إلاطاهر.رواه الدار قطني فى سننه ١/١٢١)
"হযরত ইবনে উমার রা, থেকে (নির্ভরযোগ্য সনদে) বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরআন কেবল পবিত্ররাই স্পর্শ করবে৷" (দারাকুতনী ১/১২১, সনদ সহীহ)
তাই পবিত্রতা ছাড়া মোবাইলের স্ক্রীনে দৃশ্যমান কুরআনের আয়াতসমূহের উপর স্পর্শ করা যাবে না৷ তবে মোবাইলের অন্য স্থানে ধরা যাবে৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



21 প্রশ্ন: লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তুম মিনা জালিমিন এই দুয়া কি ১২৫০০০ হাজার বার পড়া লাগে, যা বড় খতম নামে পরিচিত, এর পক্ষে কি কোন সহিহ দলিল আছে?
প্রশ্ন করেছেনঃ অমি কাজী
উত্তর: এসব খতম নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করার কোনো মৌলিক দলীল নেই৷ স্রেফ পূর্বেকার কিছু মনীষীর অভিজ্ঞতালব্দ আমল৷ কঠিন মুসীবতে পড়ে হযরত ইউনুস আ, এই আয়াত পাঠ করেছিলেন৷ আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে এই মুসীবত থেকে নাজাত দিয়েছেন৷ পূর্বেকার কিছু বুযুর্গানে-দ্বীন এত সংখ্যা পড়ে তারা দুআ করেছেন, ফল পেয়েছেন৷ ব্যস্ এতটুকুই৷ এর উপর ভিত্তি করে পরবর্তীরাও দুআ কবুলিয়তের আশায় এই সংখ্যা ফলো করে থাকেন৷ অনেক ক্ষেত্রে দুআ কবুলের আলামতও পেয়েছেনে তারা৷ যার কারণে পরবর্তীদেরও আস্থা বেড়েছে৷
এর বেশি কিছু মনে করা, নির্দিষ্ট সংখ্যার উপর ফযীলত ও সওয়াব মনে করা ঠিক না৷ মৃত ব্যক্তির জন্যে নির্দিষ্ট সংখ্যায় কালেমা খতম এসব বাড়াবাড়ি ও শরীয়ত বিবর্জিত পন্থা৷ এমনিতেই কিছু পড়ে ঈসালে সওয়াব করতে পারেন৷ নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়ে ঈসালে সওয়াব করার কথা হাদীস বা ফিকহের কিতাবে পাওয়া যায় না৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



22 প্রশ্ন: আমি একটা সরকারী ইউনিভার্সিটি তে পড়ি। বছর খানেক আগে একটা ঘটনা থেকে ক্লাসের একটা মেয়ের সাথে ফেইসবুকে কথা বলা শুরু। প্রথমদিকে চ্যাট/মেসেজ, পরবর্তীতে "ওয়াটস্যাপ" এবং শেষে মোবাইলে হয়েছে, কোনোদিন সামনাসামনি কথা হয় নি ,যদিও সে আমার সহপাঠী। এক পর্যায়ে এসে বুঝতে পারি মেয়েটাকে আমার অনেক ভাল লাগে। কথা বলার শুরু থেকেই মেয়েটা কথা বলতে চাইত না, বিভিন্ন বাহানা করে এড়িয়ে যেতে চাইত, মোবাইলে টাকা নাই- এমবি নাই, এই সব বলত।আমি চাপাচাপি করতাম। বলতাম কথা না বললে আমার পড়াশুনা খারাপ হবে। এক পর্যায়ে মেয়েটা আমাকে বলে যে সে তার মায়ের মাথা ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেছে যে সে কোনো ধরনের রিলেশন এ যাবে না। তার ভাই তাকে অনেক ভালবাসে এবং সে যদি শুনে যে সে অন্য কারো সাথে লুকিয়ে কথা বলে তাহলে খুব কষ্ট পাবে।পরে আমি বুঝতে পারি এবং মেয়েটিকে সরাসরি বিয়ের কথা বলি। মেয়েটি উত্তরে আমাকে বলে যে তার বাবা মা যার সাথে ঠিক করবে সে তাকেই বিয়ে করবে। আমি পরে বলি যে তোমার বাবা মা কে রাজী করানোর দায়িত্ব আমার, কিন্তু আমার ব্যপারে তোমার মতামত কি? মেয়েটা তখন বলল যে, যে কোনো নামাজী লোকই তার পছন্দ। মেয়েটা নিজের আমল লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে। খুব কষ্টে আমল এর কথা বের করা যেত। উলটো দিকে আমি ১ বেলা ঠিক মত নামাজ পড়তে পারলে সেটাও জানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এক পর্যায়ে দেখি যে এখন আমি নামাজ পড়ি কিন্তু আগে শুধু জুম'আর নামায পড়তাম আর হঠাৎ কোনোদিন নামাজ পরতাম। যদিও মেয়েটা কোনোদিন জিজ্ঞেস করত না শুধু নামাজ এর সময় কথা বলতে থাকলে শুধু বলতো আযান হয়েছে আমি নামাজ এ যাই, আপনিও মসজিদে যান আর একটা জিনিশ মেয়েটা কে একদিন আমি whatsapp এ একটা অডিও গান দেই শুনার জন্য, মেয়েটা উত্তরে আমাকে বলে সে গান শুনা ছেড়ে দিয়েছে। এর পর থেকে আমিও গান শুনা ছেড়ে দিয়ে্ছি। মেয়েটা আমাকে বুজিয়েছে যে এভাবে চ্যাট করাও টিক না। যদি সত্যি বিয়ে করার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে যেন এভাবে কথা না বলি আর সময় হলে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাই। আমি তার কথা মেনে নিয়ে কথা বন্ধ করে দিয়েছি হঠাৎ পড়ালেখার ব্যপারে কোনো দরকার হলে শুধু জিজ্ঞেস করি। এখন আমার মনে কয়েকদিন থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ১. আমি যে মেয়েটির কথায় নামাজ পড়ছি এটা কি ঠিক হচ্ছে? ২. আর এটা কি রিয়ার মধ্যে পড়ে যায়? ৩. আমি এক জায়গায় পড়েছিলাম মোটামোটি এইরকম যে- "সকল পুণ্যবান পুরুষ এর জন্য পুণ্যবান নারী"। এর পর থেকে আমার ভয় বেরে গেছে। কারন মেয়েটা তুলনামূলকভাবে আমার থেকে অনেক ভালো।নিশ্চয়ই আল্লাহ মেয়েটার জন্য আমার থেকে আর ভালো ছেলে তার জন্য নির্বাচন করে রেখেছেন। তাই আমিও চেষ্টা করছি দ্বীনদার মানুষ হওয়ার। আস্তে আস্তে আমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন বুঝতে পারছি। আগে কথায় কথায় গালি-গালাজ ব্যাবহার করতাম, এখন সালাম-আদাব এর প্রয়োগ বেড়েছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না যে, আমি কি ঠিক করছি নাকি সবই রিয়ার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে?
উত্তর: প্রশ্নে উল্লিখিত বিস্তারিত বিবরণ বুঝতে পারলাম, আপনার ওই বন্ধু অবৈধ প্রেমে সম্পূর্ণ বিভোর৷ তাকে শয়তানের সাজানো এই জীবন বিনষ্টকারী ধ্বংসাত্মক খেলা থেকে বাস্তব জীবনে ফিরে আসতে বলুন৷ তার জন্যে জরুরী হচ্ছে, ওই মেয়ের সাথে যে কোনোভাবে যোগাযোগ বন্ধ রাখা৷ কেননা ছেলে-মেয়ের বিবাহ বহির্ভূত যে কোনো ধরনের সম্পর্ক শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম৷ নিজের সংশোধনের উদ্দেশ্যে এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে রেখে শুধু আল্লাহর হুকুম পালন ও তাঁর সন্তুষ্টির লক্ষে নামায পড়লে আশা করা যায় রিয়া হবে না৷
যদি একান্তই এই মেয়েকে বিয়ের ইচ্ছে থাকে, তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পারিবারিকভাবে প্রস্তাব পাঠিয়ে দেয়া উচিত৷ আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে এবং তাওয়াক্কুল রাখতে বলুন৷ আল্লাহ তাআলার যেখানে হুকুম হবে, সেখানেই বিয়ে হবে এই বিশ্বাস রাখতে বলুন৷
আবার প্রশ্ন মাওলানা জিয়া রাহমান (দাঃবাঃ)
ঐ জনৈকের রিপ্লাই:-
"বিয়ের ইচ্ছে আছে পুরোপুরি। আল্লাহ চাইলে এই মেয়েকেই বিয়ে করার ইচ্ছা। কিন্তু পরিবারে বড় বিয়ের বাকি। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় বড় ভাই কিংবা বোন রেখে বিয়ে করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু প্রধান প্রশ্ন হল নামাজ-আমল ইত্যাদি কি রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, না কি মেয়েটাকে আল্লাহ উসিলা হিসাবে পাঠিয়েছেন এই কথা চিন্তা করে আমল ঠিক করার কাজ চালিয়ে যাব? আর বিয়ে তো আল্লাহর ইচ্ছা। বিয়ে নিয়ে আমার আগ বাড়িয়ে এই রকম চিন্তা কি খারাপ কিছু? আপনিই তো বললেন যে ''আল্লাহ তাআলার যেখানে হুকুম হবে, সেখানেই বিয়ে হবে এই বিশ্বাস রাখতে বলুন৷'' আমি তাতে বিশ্বাস রাখি। শুধু উনার আরেকটু দয়া আর করুণার মুখাপেক্ষী।"
উত্তর: মেয়েকে উসিলা মনে করলে তাদের রিলেশনশিপে একটা কৃত্রিম বৈধতা এসে যায়, যা শরীয়ত কখনোই সমর্থন করে না৷ তাই মনে করতে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আমলের প্রতি তার গুরুত্ব এসেছে৷ এটা তাঁর খাস দয়া এবং রহমত মনে করতে হবে৷ ওই ভাইয়ের নেক মনোবাসনা পূরণের জন্যে আল্লাহ তাআলার কাছে খাসভাবে দুআ করতে বলুন৷ আল্লাহ যেন যেখানে দুনিয়া আখেরাতে কল্যাণ হয়, সেখানেই জোড়া মিলিয়ে দেন৷
والله الموفق.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)

23 জামাতে নামাযের পড়ে একত্রে দোয়া করা কি বিদায়াত? জেনেশুনে বিদায়াত পালনের শাস্তি কি?
উত্তর: দেখুন, ফরজ সালাতের পর দুআ করা এমন ভিত্তিহীন নয় যে, এটাকে বিদআত বলা যাবে৷ আবার এমন অতি গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, এটা করতেই হবে৷ এটা স্রেফ একটি মুস্তাহাব কাজ৷ শরীয়তে যে বিষয়ের ন্যূনতম দলীল আছে এমন বিষয়কে বিদআত বলা মোটেও ঠিক হবে না৷ আবার অগুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পালন করা, শরীয়তের অংশ মনে করাও বিদআতের কারণ৷ তাই আমি নিজেও মাঝেমধ্যে দুআ করি আবার মাঝেমধ্যে ছাড়ি৷ যাতে কেউ মনে না করে যে, এটা সালাতের অংশ৷ নিচে সালাতের পরে সম্মিলিত দুআর কিছু দলীল পেশ করছি, যাতে এই দুআকে কেউ ভিত্তিহীন মনে না করে৷
ফরজ নামাযের পর মুনাজাত করা একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন-
وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، إِذَا صَلَّيْتَ فَقُلْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الخَيْرَاتِ، وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ، وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ،
"হযরত ইবনে আব্বাস রা, থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে মুহাম্মদ! যখন তুমি নামায পড়ে ফেলবে, তখন এ দুআ করবে- হে আল্লাহ!আপনার নিকট ভাল কাজের তৌফিক চাই এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছি এবং আপনার দরবারের মিসকীন তথা আল্লাহ ওয়ালাদের মুহাব্বত কামনা করছি।" (সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৩২৩৩)
ইমাম বুখারী রহ, স্বীয় কিতাব আততারীখুল কাবীরে এনেছেন-
عَنْ كاتب المغيرة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو في دبر صلاته.
"হযরত মুগিরা রা, থেকে বর্ণিত। রাসূল সা, নামায শেষে দুআ করতেন।" (আততারীখুল কাবীর, হাদীস নং-১৭৭২, ৬/৮০)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ مَقَامِي بَيْنَ كَتِفَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَانَ إِذَا سَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ عُمُرِي آخِرَهُ، اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَوَاتِيمَ عَمَلِي رِضْوَانَكَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ أَيَّامِى يَوْمَ أَلْقَاكَ.
"হযরত আনাস বিন মালিক রা, থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছিলাম রাসূল সা, এর কাঁধের পাশে। তখন রাসূল সা, সালাম ফিরিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার শেষ জীবনকে সবচে’ সুন্দর কর। হে আল্লাহ! তুমি আমার শেষ আমলকে তোমার সন্তুষ্টি অনুপাতে কর। হে আল্লাহ! তুমি তোমার সাথে আমার সাক্ষাতের দিনকে সর্বোত্তম দিন কর।" (আলমুজামুল আওসাত লিততাবারানী, হাদীস নং-৯৪১১)
হযরত সাদ রা, বলেন,
وَيَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَعَوَّذُ بِهِنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا، وَعَذَابِ الْقَبْرِ.
"রাসূল সা, প্রতি নামাযের পর এই শব্দে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কৃপণতা থেকে পানাহ চাই। এবং অভাব থেকে পানাহ চাই এবং অশীতিপর বৃদ্ধাবস্থা থেকে পানাহ চাই এবং দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আজাব থেকে পানাহ চাই।" (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫৪৭৯)
مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي يَحْيَى، قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَرَأَى رَجُلًا رَافِعًا يَدَيْهِ بِدَعَوَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهَا، قَالَ: «إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ.
"হযরত মুহাম্মদ বিন আবী ইয়াহইয়া বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের রা, কে দেখলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে নামাযের ভিতরে হাত তুলে দুআ করছেন। যখন লোকটি নামায শেষ করল। তখন তিনি তাকে বললেন, নিশ্চয় রাসূল সা, নামায শেষ করার আগে হাত তুলে দুআ করতেন না।" (আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৩২৪)
এছাড়া আরো অসংখ্য হাদীস রয়েছে যা প্রমাণ করে রাসূল সা, ফরজ নামাযের পর হাত তুলে দুআ করতেন।
২য় বিষয় পূর্বের আলোচনা দ্বারা পরিস্কার হয়ে গেল যে, রাসূল সা, ফরজ নামায শেষে হাত তুলে দুআ করতেন। এখন প্রশ্ন হল, রাসূল সা, ও সাহাবায়ে কেরাম রা, থেকে সম্মিলিতভাবে দুআ করা প্রমাণিত কি না?
নিচে শুধু দু'টি হাদীস দেয়া হল। যেখানে পরিস্কারভাবে সম্মিলিত দুআ করা ও সম্মিলিত দুআর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। যদিও সম্মিলিতভাবে দুআ করার আরো অনেক হাদীস পাওয়া যায়৷
أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ مِنْ أَهْلِ البَدْوِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلَكَتِ المَاشِيَةُ، هَلَكَ العِيَالُ هَلَكَ النَّاسُ، «فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ، يَدْعُو، وَرَفَعَ النَّاسُ أَيْدِيَهُمْ مَعَهُ يَدْعُونَ.
"হযরত আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন গ্রাম্য সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন জুমআর দিন। এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিনিস পত্র, পরিবার, মানুষ সবই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একথা শুনে রাসূল সা, তার উভয় হাত উত্তোলন করলেন দুআর উদ্দেশ্যে। উপস্থিত সবাই রাসূল সা, এর সাথে দুআর জন্য হাত উত্তোলন করলেন।" (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১০২৯)
এ হাদীসে পরিস্কারভাবে রাসূল সাঃ থেকে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত প্রমানিত। লক্ষ্য করুন। রাসূল সা, দুআ করেছেন, আর উপস্থিত সাহাবীগণ আমীন আমীন বলে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন৷
عَنْ سَلْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا رَفَعَ قَوْمٌ أَكُفَّهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُونَهُ شَيْئًا، إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَضَعَ فِي أَيْدِيهِمُ الَّذِي سَأَلُوا.
"হযরত সালমান রা, থেকে বর্ণিত। রাসূল সা, ইরশাদ করেছেন, যখন কোন জামাআত তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করার আশায় আল্লাহর দরবারে হাত উঠায়, তখন আল্লাহ তাআলার উপর হক হয়ে যায় প্রার্থিত বিষয় উক্ত জামাতকে প্রদান করা।" (আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৬১৪২, আততারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-১৪৪, মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭৩৪১, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩১৪৫)
আল্লামা হায়ছামী রহ, বলেন, এ হাদীসের সনদের সকল রাবীগণ সহীহের রাবী। (মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭৩৪১)
এ প্রসঙ্গে সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহ মাওলানা আবদুল মালেক (দা,বা,) বলেন- "ফরয নামাযের পর দুআ। এই দুআর প্রচলিত পদ্ধতিকে আমার জানামতে আকাবিরের কেউ সুন্নতে রাতেবা অথবা ফরয নামাযের পরের কোনো স্বতন্ত্র সুন্নত মনে করেন না; বরং তাদের কেউ কেউ সেটাকে সর্বোচ্চ মুস্তাহাব বলতেন। সাথে সাথে এ কথাও স্পষ্ট করে বলে দিতেন যে, কেউ যদি একে স্বতন্ত্র সুন্নত মনে করে সবসময়ই আমল করে এবং অন্য কেউ এই আমল ছেড়ে দিলে তার সমালোচনা করে তাহলে সেটা বিদআত বলে গণ্য হবে। (অর্থাৎ বিদআতে ওয়াসফিয়্যা বা ইযাফিয়্যাহ বলে গণ্য হবে)।
" والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)




24 প্রশ্ন: নিকাব করা বেশী পছন্দনীয় না শুদু হিজাব এই কাজ সেরে যাবে? কোনটির পক্ষে দলিল এবং যুক্তি বেশী?
উত্তর: মহিলাদের মুখমন্ডলসহ সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রাখা জরুরী৷ তাই যা পরলে মুখ হাতসহ সমস্ত শরীরের পর্দা রক্ষা হবে, তাই পরতে হবে৷
নেকাব দিয়ে হোক বা অন্যকিছু দিয়ে হোক, মহিলাদের সমস্ত মুখমন্ডল ঢেকে রাখা অপরিহার্য৷ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-
يا ايها النبى قل لازواجك وبناتك ونساء المؤمنين يدنين عليهن من جلابيبهن.
"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আহযাব : ৫৯)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।-ফাতহুল বারী ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪ ইবনে সীরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ী) আবীদা (সালমানী রাহ.)কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে।
হযরত আয়েশা রা. ইফ্কের দীর্ঘ হাদীসে বলেছেন-আমি আমার স্থানে বসে ছিলাম একসময় আমার চোখ দুটি নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর পিছনে আগমনকারী। সে যখন আমার অবস্থানস্থলের নিকট পৌঁছল তখন একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। সে তখন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফেলি। অন্য রেওয়ায়েতে আছে, আমি ওড়না দিয়ে আমার চেহারা ঢেকে ফেলি। (সহীহ বুখারী ৫/৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭৭০; জামে তিরমিযী, হাদীস: ৩১৭৯)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম। (মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০; ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৯৩৫)
এই হাদীসদ্বয় থেকেও বোঝা যায়, পরপুরুষের সামনে চেহারা ঢেকে রাখা আবশ্যক। (মাসিক আল-কাউসার অক্টোবর ২০১২ থেকে সংক্ষেপিত)
তাছাড়া নারীদের চেহারা হলো মুল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু৷ এই চেহারাই যদি খোলা থাকল, তাহলে পর্দার সার্থকতা থাকল কই? ফিতনার সূত্রপাত তো এখান থেকেই হয়৷
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)



25 প্রশ্ন: সুগন্ধী হিসেবে যদি বডি স্প্রে বা পারফিউম দেই যেটাতে এলকোহল এর পরিমাণ বেশি থাকে তাহলে কী জায়েজ হবে?
প্রশ্ন করেছেনঃ নিবির ফারহান
উত্তর: বর্তমান অধিকাংশ পারফিউম ও স্প্রেতে এ্যালকোহল থাকে। তবে অ্যালকোহলমুক্ত পারফিউমও পাওয়া যায়। তাই পারফিউম বা স্প্রে ব্যবহার করতে চাইলে অ্যালকোহলমুক্তগুলোই খরিদ করবেন। অ্যালকোহলযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করা অনুত্তম। নাজায়েয বা নাপাক নয়। তাই কাপড় বা শরীরে স্প্রে লাগিয়ে নামায পড়লে নামায সহীহ হয়ে যাবে।-(মাবসূতে সারাখসী ২৪/৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৩০; তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম ১/৫৫১, ৩/৬০০; মাজমুআতুল ফাতাওয়া শারইয়্যাহ ১/১৮৪, ৪/৪৫৷ সূত্র: মাসিক আল-কাউসার)
والله تعالى أعلم.
উত্তর দিয়েছেন- হাফেয মুফতি জিয়া রাহমান (দাঃ বাঃ)







No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages